যৌথ প্রযোজনা নামে দেশের স্বার্থকে কোনোভাবেই জলাঞ্জলি দেওয়া যাবে না

যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের কোনো আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক ও বরেণ্য চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। তিনি বলেছেন, ‘যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের কোনো আপত্তি নেই। তবে সেটা কোনোভাবেই দেশের ঐহিত্য ও সংস্কৃতিকে ভুলণ্ঠিত করে নয়। যৌথ প্রযোজনা নামে দেশের স্বার্থকে কোনোভাবেই জলাঞ্জলি দেওয়া যাবে না। অন্যের শেখানো বুলিতে দেশকে হেয় বা খাঁটো করা যাবে না। নামে মাত্র দুই-একজন শিল্পীকে অন্তর্ভূক্তি করে সেটাকে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র হিসেবে চালিয়ে দেওয়া প্রতারণার শামিল। এটা দেশের চলচ্চিত্রের জন্য বড় বিপদের কথা। তথাকথিত যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রের ঘোর বিরোধী আমরা। যৌথ প্রযোজনা চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য শক্ত নীতিমালার প্রয়োজন। প্রণীত ওই নীতিমালার আলোকেই যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।’ শনিবার এফডিসির ৮ নম্বর শুটিং ফ্লোরে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বির্তক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন ও  চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও অভিনেতা মিশা সওদাগর। এর আগে ‘যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ’ বিষয়ে ছায়া সংসদে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় (সরকারি দল) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিক দল। রানার আপ হয় মানারাত ইউনিভার্সিটি। ফারুক স্বর্ণালী যুগের চলচ্চিত্রের কথা তুলে ধরে বলেন ‘চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনতে হবে। সংশ্লিষ্টমহলকে এতদিন বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করে কথা বলেছি। এখন জোরে চিৎকার করে বলতে চাই  দেশের চলচ্চিত্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য সবার মধ্যে দেশপ্রেম থাকতে হবে। দুইটা টাকার জন্য নিজেকে বিকিয়ে দিয়ে নিজের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা যাবে না।’ আমজাদ হোসেন বলেন ‘কোথায় গেলে চলচ্চিত্রের সেই দিন। যে দিন পরিবার-পরিজন এক সঙ্গে চলচ্চিত্র দেখতে হলে যেতেন। সে পরিবেশ আর নেই। এ রকম পরিবেশ সৃষ্টি করে সবাইকে হলমুখী করতে হবে।’ মিশা সওদাগর বলেন ‘শিল্প-জগত হচ্ছে একটা আবেগের জায়গা। সে আবেগের জায়গা থেকেই সৃজনশীল কর্ম সম্পাদন হয়। আবেগ ছাড়া শিল্প-সৃজন সম্ভব নয়। এ জন্য সবাইকে আবেগ দিয়ে কাজ করে যেতে হবে। সমান সমান ভিত্তিতে যৌথ প্রযোজনা চলচ্চিত্র করতে হবে। আমার সংস্কৃতি আমাদেরই মতো করে দেখাতে হবে। অন্যের সংস্কৃতিকে কোনোভাবেই নিজের মধ্যে ধারণ করা যাবে না এবং অভিনয়ের মধ্যেও প্রকাশ করা যাবে না।’ সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন ‘যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণে দুই দেশের শিল্পী-কলা-কুশলীর সংখ্যা সমান সমানে থাকার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। চলচ্চিত্র উন্নয়নের নামে বাংলাদেশের বাজার টার্গেট করে তথাকথিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হলে তা আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ভালো নয়।’

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *