উন্নয়ন শুধু আওয়ামী নেতাদের কণ্ঠে, বাস্তবে নেই: রিজভী

‘সুফল তো নয়, কুফলের’ দুর্ভোগে মানুষের নাকাল অবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, উন্নয়ন শুধু আওয়ামী নেতাদের কণ্ঠে, বাস্তবে নেই। আজ শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব বলেন। তিনি বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী এক সভায় বলেছেন- ‘বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে’। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের মানুষ ভোটারবিহীন সরকারের উন্নয়নের গালভরা বুলির বহি:প্রকাশ এখন চারিদিকে দেখা যাচ্ছে। সুফল তো নয়, কুফলের দুর্ভোগে মানুষের নাকাল অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ সারাদেশের রাস্তাঘাট-সড়ক মহাসড়ক-অলিগলি এখন লন্ডভন্ড। এক ঘন্টার বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাটের হদিস পাওয়া যায় না। কার, জিপ, ট্রাক, বাস, মিনিবাস, সিএনজি, রিকশা রাস্তার ওপর দিয়ে চলেনা, নৌযানের মতো পানিতে ভাসে। মানুষরা প্রশ্ন করছেন-ইডেন কলেজ, শান্তিনগর, পল্টন, বিজয় নগর, মালিবাগ এই এলাকাগুলো কোন নদীর তীরে অবস্থিত। সুতরাং এ কথাগুলো রসিকতা হলেও প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের প্রতি মানুষের ধারণা এরকমভাবেই ফুটে উঠেছে। কেবল রাজধানীর মানুষই দুর্ভোগে নেই, সারাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোই এখন তছনছ হয়ে গেছে। মহাসড়কগুলোর খানাখন্দ আর বেহাল দশায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। মানুষ যেদিকেই তাকায় সেদিকেই হতাশা। কর্মসংস্থান নেই, বেকারের সংখ্যা তীব্র মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, রেমিট্যান্স ব্যাপকভাবে কমে গেছে, বিদেশে কর্মরত হাজার হাজার প্রবাসীকে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, বিনিয়োগের পরিবেশ নেই; ফলে একের পর এক গার্মেন্টস শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং উন্নয়ন শুধু আওয়ামী নেতাদের কন্ঠে, বাস্তবে নেই। রিজভী বলেন, গতকাল বরিশালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আবারো বলেছেন যে, বিএনপি চেয়ারপারসন নাকি লন্ডনে ষড়যন্ত্র করছেন। আওয়ামী নেতারা এমন চিজ যে, এরা বিশ্বের বরেণ্য নেতাদের কর্মকান্ড অনুসরণ করেন না, বরং বারবার মিথ্যা বলতে গোয়েবলসীয় তত্ত্বকেই আঁকড়ে ধরেন। অবশ্য আওয়ামী নেতাদের এই মূহুর্তে এছাড়া অন্য গত্যন্তর নেই। ডাহা মিথ্যার ওপরেই তাদেরকে নির্ভর করতে হয়। কারণ, সবদিক থেকে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে অসত্য, বানোয়াট মিথ্যা কথা বলা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডনে চিকিৎসা নিয়ে আওয়ামী নেতাদের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করাতে সরকার কোন অশুভ পরিকল্পনা আঁটছে কিনা তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। রিজভী বলেন, আওয়ামী নেতারা যখন বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্ভট অভিযোগ করেন তখন বুঝতে হবে সেটি সুুদুরপ্রসারী চক্রান্তেরই অংশ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কেনো গোপন ফন্দি আঁটার বহি:প্রকাশ। যেমন গত আন্দোলনগুলোতে গাড়ীতে আগুন লাগিয়ে নাশকতার ঘটনা আপনারা নিশ্চুই ভুলে যাননি। ঘটনা ঘটার পরপরই হাতেনাতে ধরা পড়েছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা তাদের অভ্যন্তরীণ কনফারেন্সে মুখ ফসকে বলেছিলেন-‘পুলিশই তো গাড়ী পোড়াই’। বিহঙ্গ গাড়ী ও বিআরটিসি বাসে আগুন লাগানোর ঘটনাটি ছিল বিস্ময়কর, গাড়ীর অভিমূখ ছিল একদিকে আর পোড়ানো হয়েছে অনেক দুরে অন্যদিকে। এ বিষয়গুলি আমরা বারবার তুলে ধরেছি। আওয়ামী নেতা ও বিহঙ্গ পরিবহনের মালিকের বিরুদ্ধে গাড়ী পোড়ানোর স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য স্বয়ং বরিশালের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। জঘন্য অন্যায় কখনোই আড়াল করা যায়না। সুতরাং এখন আওয়ামী নেতারা যে ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন আসলে তারাই বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র করছেন বলে দেশের মানুষ মনে করে। মানুষের মনে এই ধারণা জন্মলাভ করেছে-দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন দুরে থাক, আওয়ামী নেতারা আগামী সাধারণ নির্বাচন, মৃতপ্রায় মানুষের নাগরিক অধিকার তথা বহুদলীয় গণতন্ত্রকে একেবারে উচ্ছেদ করতে ভয়ঙ্কর নীলনকশা এঁটে চলেছেন। শ্যামলীর গণভবন এখন কাশিমবাজার কুঠি এবং সুধা ভবন এখন জগৎশেঠ ও ঘষেটি বেগমদের ষড়যন্ত্রের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। রিজভী বলেন, ইউনূস সেন্টার আয়োজিত ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা দিবস ২০১৭’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। ২৮-২৯, ২০১৭ তারিখের আয়োজিত ৭ম আন্তর্জাতিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সম্মেলনে পাঁচশ বিদেশি অতিথিসহ ৩৬টি দেশের দুই হাজারের বেশি প্রতিনিধির এ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার জন্য অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্ততিও সম্পন্ন হয়েছিল বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। আমন্ত্রিত পাঁচশ বিদেশি অতিথির মধ্যে প্রায় দুইশ অতিথি এরইমধ্যে ঢাকায় উপস্থিতও হয়েছেন। সম্মেলনের বিষয়টি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনসহ সাতটি দপ্তরে গত ২০ জুলাই চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলেও ইউনূস সেন্টার কর্তপক্ষ জানিয়েছেন। আর্ন্তজাতিক সম্মেলনের অনুমতি না দেওয়ার সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। এ বাধা দেয়ায় ঘটনা ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এমনিতে ৫ জানুয়ির ভোটারিবিহীন এক তরফা নির্বাচনের পর থেকে সরকারি দল ও তাদের মিত্ররা ছাড়া প্রকাশ্যে কারও সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় না। ঘরোয়া সভায়ও হানা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারপরে এ ধরণের আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে বাধা দেওয়া স্বৈরতন্ত্রেরই হিং¯্ররুপ। এরফলে আর্ন্তজাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আরও গভীর হবে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার নির্যাতিত বিএনপি নেতা নিজামউদ্দিন খান ক্রিম (বয়স ৪৫) মহাদেবপুরের নিজ বাড়ীতে শিবালয় থানা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বাড়ীর পার্শ্ববর্তী পুকুরে ডুবে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। পুলিশের তাড়া খেয়ে নিজামউদ্দিন খানের মৃত্যুতে পুলিশী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি দলের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *